ADVOCATE
ABDUR RAHMAN ASAD

TANGAIL JUDGE COURT OF BANGLADESH

বিয়ের কাবিননামায় যে ধারাগুলো অবশ্যই দেখে নেবেন

06 Nov, 2026 আসাদ টিম পারিবারিক আইন

ভূমিকা ও পটভূমি

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুসারে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি এবং এর আইনি দলিল হলো কাবিননামা বা নিকাহনামা। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করার পূর্বে এর প্রতিটি ধারা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় অবহেলার কারণে পরবর্তীতে দম্পতিদের আইনি জটিলতা ও পারিবারিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আমি সবসময় পরামর্শ দিই যে, কাবিননামার প্রতিটি কলাম ও শর্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ে তারপর স্বাক্ষর করা উচিত।


কাবিননামার যে ধারাগুলো বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন

নিকাহনামার ফরমটিতে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কলাম বা ধারা থাকে যা স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে কনেপক্ষের এই ধারাগুলো নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা উচিত নয়। নিচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো আলোচনা করা হলো:

  1. দেনমোহরের ধরণ (ধারা ১৩ ও ১৪): দেনমোহর নগদ পরিশোধ করা হচ্ছে (মুআজ্জাল) নাকি বাকি রাখা হচ্ছে (মুয়াওজ্জাল), তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
  2. বিশেষ শর্তাবলী (ধারা ১৮): এই ধারায় স্ত্রী চাইলে তার নিজের কিছু যৌক্তিক শর্ত যোগ করতে পারেন, যেমন পড়াশোনা বা চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার কিংবা বিয়ের পর স্বামীর সাথে বসবাসের স্থান সংক্রান্ত শর্ত।
  3. তালাক-ই-তৌফিজের অধিকার (ধারা ২২): মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী কি তালাক প্রদানের ক্ষমতা (তালাক-ই-তৌফিজ) রাখেন কি না, তা এই ধারায় হ্যাঁ বা না টিক দিয়ে নিশ্চিত করতে হয়। এই অধিকারে সাধারণত 'হ্যাঁ' সূচক টিক দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আইনি সুরক্ষা ও সতর্কতা

আইনগতভাবে কাবিননামার কোনো তথ্য ভুল বা অসত্য প্রমাণিত হলে পরবর্তীতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর দায়িত্ব হলো উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এবং তাদের সম্মতিতে সঠিকভাবে ফরম পূরণ করা। কোনো ধারা ফাঁকা রাখা যাবে না। ফাঁকা রাখলে পরবর্তীতে সেখানে জালিয়াতির সুযোগ থাকে।

"মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বিধান অনুযায়ী প্রতিটি নিকাহনামা সঠিকভাবে পূরণ ও সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক এবং এতে উভয় পক্ষের আইনি অধিকার সুরক্ষিত থাকে।"

পরিশেষে বলা যায়, তাড়াহুড়ো করে বা না বুঝে কাবিননামায় স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে কাবিননামার প্রতিটি ধারা যাচাই করে নিন, যাতে ভবিষ্যৎ জীবন আইনি সুরক্ষার বেড়াজালে নিরাপদ থাকে।

এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পোস্টটি শেয়ার করুন:

অন্যদের আইনি সচেতনতা বৃদ্ধিতে পোস্টটি সহায়ক হতে পারে।
Facebook WhatsApp LinkedIn

পেশাদার আইনি পরামর্শ প্রয়োজন?

যেকোনো দেওয়ানি, ফৌজদারি, জমি সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা হাইকোর্টের রিট পিটিশনের বিষয়ে সরাসরি কথা বলুন এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদের সাথে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন WhatsApp করুন কল করুন

সাম্প্রতিক অন্যান্য আইনি পোস্ট

পারিবারিক আইন

একমুখে তিন তালাক দিলেই কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়? বাংলাদেশের আইন ও সঠিক নিয়ম

বিস্তারিত পড়ুন
ফৌজদারি আইন

"ছেলেদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই": ভুল ধারণা ও আসল আইন!

বিস্তারিত পড়ুন
ফৌজদারি আইন

ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যে করণীয় ও আইনি পদক্ষেপ

বিস্তারিত পড়ুন
সিভিল আইন

সিএস, এসএ এবং বিএস খতিয়ান চেনার সহজ ও নিখুঁত উপায়

বিস্তারিত পড়ুন
সিভিল আইন

বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ না দিলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার উপায়

বিস্তারিত পড়ুন