ভূমিকা ও পটভূমি
বাংলাদেশে প্রায়শই একটি ধারণা প্রকাশ পেতে দেখা যায় যে—"আইন কেবল নারীদের জন্য, ছেলেদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই।" তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ভুল ধারণা। আইন সর্বদাই ইনসাফ ও সমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। এছাড়া দণ্ডবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি এবং পারিবারিক আইনে পুরুষদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষার স্পষ্ট ও কঠোর বিধান রয়েছে।
সংবিধান ও সাধারণ আইনে পুরুষদের মৌলিক সুরক্ষা
বাংলাদেশের মৌলিক আইনি কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরে সমতার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক যেকোনো বৈষম্য আইনত অসাংবিধানিক।
"গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।"
অতএব, কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে অন্যায় বা অবিচার হলে আইন তাকে পূর্ণ সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
মিথ্যা মামলা ও ভুয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা বা হয়রানি করা হলে পুরুষরা প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই অপরাধীর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থার আবেদন জানাতে পারেন:
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২১১: কারো ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১৭: কোনো ব্যক্তি যদি কাঙ্ক্ষিত সুবিধা আদায় বা হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, তবে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মূল অপরাধের সমপরিমাণ সাজার আইনি বিধান রয়েছে।
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১৮২: কোনো সরকারি কর্মচারীকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে মিথ্যা তথ্য বা অভিযোগ দায়ের করা হলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৫০০: অসত্য অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে সম্মানহানি করা হলে সংক্ষুব্ধ পুরুষ ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করতে পারেন।
পারিবারিক বিরোধ ও সন্তানের কাস্টডিতে পুরুষের আইনি অধিকার
পারিবারিক মামলা বা বিরোধের ক্ষেত্রে পুরুষদের আইনি সুরক্ষা ও অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
আইনি সুরক্ষা পেতে সংক্ষুব্ধ পুরুষের করণীয়
আইনি জটিলতা প্রতিরোধে ও নিজেদের অধিকার রক্ষায় পুরুষদের দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে:
- প্রমাণ ও নথিপত্র সংরক্ষণ: চ্যাট হিস্ট্রি, কল রেকর্ড, বা যেকোনো প্রকার ডিজিটাল ও দালিলিক প্রমাণাদি নিরাপদ স্থানে সংগ্রহ করে রাখুন।
- সাধারণ ডায়েরি (GD) দায়ের: কোনো প্রকার হুমকি বা মিথ্যা মামলার আশঙ্কা থাকলে অবহেলা না করে নিকটস্থ থানায় তাৎক্ষণিক সাধারণ ডায়েরি করুন।
- উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্ট আবেদন: মিথ্যা অভিযোগে ফৌজদারি চার্জশিট গৃহীত হলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারা অনুযায়ী উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্ট (Quashment) মামলা বাতিল চেয়ে আবেদন করা যায়।
উপসংহার
"ছেলেদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই"—এই ধারণাটি মূলত আইনি সচেতনতার অভাবেই তৈরি হয়েছে। সঠিক সময়ে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ ও সঠিক আইনি ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে পুরুষরাও আইনের পূর্ণ সুরক্ষা ও ইনসাফ লাভ করতে পারেন।