ADVOCATE
ABDUR RAHMAN ASAD

TANGAIL JUDGE COURT OF BANGLADESH

ব্যাংকের লকার থেকে চুরি হলে ব্যাংকের আইনি দায় ও প্রতিকার!

29 Oct, 2026 আসাদ টিম সিভিল আইন

ভূমিকা ও পটভূমি

ব্যাংকের সেফ ডিপোজিট লকার সুবিধা সাধারণ মানুষের মূল্যবান সম্পদ সুরক্ষার একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু যদি কোনো কারণে ব্যাংকের ভল্ট বা লকার থেকে গ্রাহকের স্বর্ণালঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র বা নগদ অর্থ চুরি, ডাকাতি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ব্যাংকের দায় কতটুকু তা নিয়ে প্রায়শই জটিল আইনি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে লকারের ভেতরের সামগ্রীর জন্য তারা দায়ী নয়। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও দেওয়ানি নীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাংক সম্পূর্ণভাবে দায় এড়াতে পারে না।


ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের আইনি ভিত্তি

ব্যাংক লকারের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে আইনি সম্পর্কটি চুক্তি আইনের অধীনে আমানত রাখা ও গ্রহণের সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৮ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে চুক্তি সাপেক্ষে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নিকট মালামাল হস্তান্তর করলে তাকে আমানত বলা হয়।

"চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫১ অনুযায়ী, প্রতিটি বেলমেন্ট চুক্তিতে আমানতগ্রহীতাকে উক্ত মালামালের সুরক্ষায় একজন সাধারণ বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার নিজের মালামালের ক্ষেত্রে যে ধরনের যত্ন নেন, ঠিক ততটাই যত্ন নিতে হবে।"

ব্যাংকের অবহেলা ও আইনি জবাবদিহিতা

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি লকারের নিরাপত্তায় গাফিলতি বা অবহেলা প্রদর্শন করে, তবে গ্রাহক তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। ব্যাংক লকার চুক্তিতে গ্রাহকের কাছ থেকে দায়মুক্তির যে সমস্ত শর্ত সই করিয়ে নেওয়া হয়, সেগুলোর দোহাই দিয়ে ব্যাংক তাদের চরম গাফিলতির দায় এড়াতে পারে না।

আইনি প্রতিকারের উপায়সমূহ:

  1. দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা: ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে লকারের মালামাল চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভুক্তভোগী দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করতে পারেন।
  2. ফৌজদারি মামলা দায়ের: যদি লকার চুরির পেছনে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকে, তবে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৯ এবং ধারা ৩৭৮ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা রুজু করা সম্ভব।
  3. বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ: ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ পেশ করা যায়।

গ্রাহকের জন্য করণীয় ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ

লকার চুরির মতো ঘটনা ঘটলে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হতে গ্রাহককে কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রতিকার পেতে এবং আদালতে উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করা জরুরি:


উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ব্যাংকের লকার থেকে কোনো সম্পত্তি চুরি হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের সম্পূর্ণ দায়মুক্ত দাবি করতে পারে না। প্রচলিত চুক্তি আইন, ১৮৭২ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর আইনি কাঠামো অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিধানে ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক আদালতের মাধ্যমে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রাখেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পোস্টটি শেয়ার করুন:

অন্যদের আইনি সচেতনতা বৃদ্ধিতে পোস্টটি সহায়ক হতে পারে।
Facebook WhatsApp LinkedIn

পেশাদার আইনি পরামর্শ প্রয়োজন?

যেকোনো দেওয়ানি, ফৌজদারি, জমি সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা হাইকোর্টের রিট পিটিশনের বিষয়ে সরাসরি কথা বলুন এডভোকেট আব্দুর রহমান আসাদের সাথে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন WhatsApp করুন কল করুন

সাম্প্রতিক অন্যান্য আইনি পোস্ট

পারিবারিক আইন

একমুখে তিন তালাক দিলেই কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়? বাংলাদেশের আইন ও সঠিক নিয়ম

বিস্তারিত পড়ুন
ফৌজদারি আইন

"ছেলেদের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই": ভুল ধারণা ও আসল আইন!

বিস্তারিত পড়ুন
ফৌজদারি আইন

ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যে করণীয় ও আইনি পদক্ষেপ

বিস্তারিত পড়ুন
সিভিল আইন

সিএস, এসএ এবং বিএস খতিয়ান চেনার সহজ ও নিখুঁত উপায়

বিস্তারিত পড়ুন
সিভিল আইন

বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ না দিলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার উপায়

বিস্তারিত পড়ুন