ভূমিকা ও পটভূমি
বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক সমাজে প্রায়ই একটি প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপিত হয় যে, কোনো ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় নিজের অর্জিত বা পৈত্রিক সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে আইনগতভাবে ভাগ করে দিতে বাধ্য কি না অথবা সন্তানরা জোরপূর্বক এই ভাগ চাইতে পারে কি না। দেশের প্রচলিত দেওয়ানি ও পারিবারিক আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, যা প্রতিটি নাগরিকের জানা আবশ্যক।
আইনি দৃষ্টিভঙ্গি ও মালিকানার অধিকার
আইনের দৃষ্টিতে, কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সমস্ত সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ ও একচ্ছত্র মালিক তিনিই নিজে। সম্পত্তি অর্জনের উৎস যাই হোক না কেন, যতদিন একজন ব্যক্তি বেঁচে আছেন, ততদিন তার সম্পত্তিতে অন্য কারো আইনি অধিকার জন্মায় না। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য ব্যক্তি মারা যান।
"জীবিত ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকারী হয় না" - এটি সম্পত্তি আইনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক আইনি নীতি।
পিতার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা
যেহেতু পিতা তার সম্পত্তির মালিক, তাই তিনি তার জীবদ্দশায় নিজের ইচ্ছামতো তা ব্যবহার, ভোগ এবং হস্তান্তর করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আইনের কিছু নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে:
- হেবা বা দানপত্র - পিতা চাইলে জীবিত অবস্থাতেই রেজিস্ট্রিকৃত হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে লিখে দিতে পারেন।
- বিক্রয় বা হস্তান্তর - পিতা তার জীবদ্দশায় যেকোনো সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন এবং এতে সন্তানদের কোনো আইনি বাধা দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না।
- উইল বা ওসিয়ত - মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারেন বাকি অংশ উত্তরাধিকারীদের জন্য নির্ধারিত থাকে।
সন্তানদের করণীয় ও পরামর্শ
বাবার জীবদ্দশায় সম্পত্তি নিয়ে কোনো ধরনের আইনি বিরোধ বা আদালতে মামলা করা অর্থহীন, কারণ আদালত জীবিত ব্যক্তির সম্পত্তির বাঁটোয়ারা সংক্রান্ত কোনো ডিক্রি বা আদেশ দিতে পারে না। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আলোচনার মাধ্যমেই কেবল পারিবারিক সমঝোতা সম্ভব। কোনো আইনি জটিলতা এড়াতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।